সব লেখা

শেষকৃত্যের বক্তৃতা · 24 মিনিটের পড়া

শোক বার্তা: সমবেদনা জানাতে কী লিখবেন, ৫০টির বেশি নমুনা

শোক বার্তার নমুনা: মা-বাবার মৃত্যুতে, বন্ধু বা সহকর্মীকে, মেসেজ, Facebook স্ট্যাটাস আর কার্ডে পাঠানোর ৫০টির বেশি সমবেদনা বার্তা, ইসলামিক ও হিন্দু রীতিসহ।

Goodbye App দলের লেখা · ৬ নভেম্বর, ২০২৬

গোল কাচের টেবিলে কাঠের ডিপ কলমে ফ্যাকাশে ধূসর একটি খামে লিখছে এক নারীর হাত, পাশে কালির দোয়াত আর একটি গোলাপি খাম
ছবি cottonbro studio, Pexels-এ

টেবিলে একটা খালি কার্ড পড়ে আছে, কিংবা Messenger-এর মেসেজ বক্সে কার্সরটা বিশ মিনিট ধরে জ্বলছে আর নিভছে। আপনার কাছের কেউ একজন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন, আর ভুল কিছু বলে ফেলার ভয়ে আপনি এখনও কিছুই বলেননি। এই শোক বার্তাগুলো ঠিক সেই মুহূর্তের জন্য: কপি করে, নিজের মতো বদলে, আজই পাঠানোর মতো কথা।

শোক বার্তা, যাকে সমবেদনা বার্তাও বলা হয়, প্রিয়জন হারানো একজন মানুষকে জানায় যে তাঁর কষ্টে আপনিও কষ্ট পেয়েছেন, আর যিনি চলে গেছেন, তিনি আপনার কাছেও অনেকখানি ছিলেন। নিচে আছে ভালো একটা বার্তার চারটি অংশ, তারপর সম্পর্ক, মাধ্যম, ধর্ম আর মৃত্যুর ধরন অনুযায়ী পূর্ণ বার্তা, আর সেই কথাগুলো, যা ভালো উদ্দেশ্যে বললেও কষ্ট দেয়। আজ পাঠানো সাদামাটা একটা বার্তা টেবিলে পড়ে থাকা নিখুঁত বার্তার চেয়ে অনেক বেশি কাজে আসে। এই বার্তাগুলো যদি আপনিই পাচ্ছেন, তাহলে জবাবে কী বলবেন তা আছে সমবেদনার উত্তর কীভাবে দেবেন লেখাটিতে।

শোক বার্তায় কী লিখবেন: ভালো একটা সমবেদনা বার্তার চারটি অংশ

কার্ডে হোক বা মেসেজে, চারটি কথা লিখুন: আপনি মৃত্যুর খবর পেয়েছেন, যিনি মারা গেছেন তাঁর নামসহ; আপনি কষ্ট পেয়েছেন; তাঁর একটা স্মৃতি বা একটা গুণ; আর এমন একটা শেষ, যা পরিবারের কাছে কিছুই চায় না। এতে তিন-চার লাইনই লাগে, আর AARP-এর সমবেদনা লেখার নির্দেশিকা বলে, ততটুকুই যথেষ্ট। নিচে চারটিকে জুড়ে একটা বার্তা বানানো হলো, ছোটবেলার এক বান্ধবীকে, যাঁর বাবা মারা গেছেন; এই পাতার প্রতিটি বার্তার মতো এটাও কল্পনা করা, নামগুলোসহ।

  1. মৃত্যুর খবর, আর তাঁর নাম। সোজাসুজি বলুন, আর বার্তার কোথাও যিনি মারা গেছেন তাঁর নামটা লিখুন; মানুষ নামটা বলা বন্ধ করে দেয়, আর পরিবার সেটা খেয়াল করে। "তানিয়া, এইমাত্র তোমার আব্বুর খবরটা শুনলাম।"
  2. দুঃখ, নিজের ভাষায়। ভারী আনুষ্ঠানিক শব্দের চেয়ে সাদামাটা কথা বেশি সান্ত্বনা দেয়। "শুনে খুব কষ্ট পেলাম।"
  3. একটা স্মৃতি বা একটা গুণ। পরিবার যে অংশটা রেখে দেয়: ছোট, সত্যি একটা কথা। "বারবার মনে পড়ছে, আজিজ চাচা প্রতি শুক্রবার তাঁর সবুজ ভেসপায় চড়িয়ে আমাদের কোচিংয়ে নিয়ে যেতেন, আর ফেরার পথে ফুচকা খাওয়াতেন, একবারও আমাদের টাকা দিতে দেননি।"
  4. এমন শেষ, যা কিছুই চায় না। উত্তর দেওয়ার দরকার নেই, আর বড়জোর একটা প্রস্তাব, নির্দিষ্ট একটা দিনসহ। যুক্তরাজ্যের শোক-সহায়তা সংস্থা Cruse যেমন বলে, "কিছু লাগলে জানিয়ো"-র চেয়ে বৃহস্পতিবার বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব অনেক বেশি কাজে আসে। "উত্তর দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার বাচ্চাদের আমি স্কুল থেকে নিয়ে আসব, আমাদের বাসায় খাইয়ে দেব।"

সব জুড়ে, সই করে:

তানিয়া, এইমাত্র তোমার আব্বুর খবরটা শুনলাম, শুনে খুব কষ্ট পেলাম। বারবার মনে পড়ছে, আজিজ চাচা প্রতি শুক্রবার তাঁর সবুজ ভেসপায় চড়িয়ে আমাদের কোচিংয়ে নিয়ে যেতেন, আর ফেরার পথে ফুচকা খাওয়াতেন, একবারও আমাদের টাকা দিতে দেননি। উত্তর দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার বাচ্চাদের আমি স্কুল থেকে নিয়ে আসব, আমাদের বাসায় খাইয়ে দেব।

ভালোবাসা নিয়ো, শিউলি

স্মৃতিটা ইচ্ছে করেই ছোট: শুক্রবারের সেই সবুজ ভেসপা যা বলে দেয়, "তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন" কথাটা তা কোনোদিন বলতে পারে না।

ছোট শোক বার্তার নমুনা: কার্ড বা মেসেজে আজই পাঠানোর মতো বারোটি

কার্ডে বা মেসেজে ছোট একটা শোক বার্তা এক-দুই লাইনেরই হতে পারে, যদি সেটা আপনার মতো শোনায়, আর যেখানে পারেন, যিনি চলে গেছেন তাঁর নামটা থাকে। তৃতীয় বন্ধনীর শব্দগুলো নিজের কথায় বদলে নিন।

  1. "[নাম]-এর খবরটা এইমাত্র শুনলাম। খুব কষ্ট পেলাম। উত্তর দিতে হবে না; তোমার কথা ভাবছি।"
  2. "[নাম] ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মনের মানুষদের একজন। খুব কষ্ট পেলাম, আর আমি পাশে আছি।"
  3. "[তোমার গ্র্যাজুয়েশনের দিন আন্টির সেই হাসি] আমার প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটা। খুব কষ্ট পেলাম।"
  4. "ঠিক কথাগুলো খুঁজে পাচ্ছি না, তাই সোজা কথাই বলি: খুব কষ্ট লাগছে। তোমার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।"
  5. "তোমাদের সবার কথা ভাবছি। [প্রতিদিন সকালে বারান্দায়] [নাম]-কে দেখার কথা খুব মনে পড়বে।"
  6. "সারা দিন তোমার কথা ভেবেছি। এই সপ্তাহে একটু হাঁটতে বের হলে ভালো লাগবে মনে হলে, [বুধবার পাঁচটার পরে] আমি ফাঁকা আছি।"
  7. "[নাম]-এর খবরটা শুনে খুব খারাপ লাগল। [তাঁকে] চেনার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ।"
  8. "[লন্ডন] থেকে ভালোবাসা পাঠাচ্ছি। তোমার পাশে থাকতে পারলে ভালো হতো; [নাম]-এর খবরে খুব কষ্ট পেলাম।"
  9. "কী বলব বুঝতে পারছি না, শুধু জানি যে খুব কষ্ট লাগছে, আর আমি সবসময় তোমার পাশে আছি।"
  10. "আপনার [বাবার] মৃত্যুতে আমার গভীর সমবেদনা জানবেন। নিজের সময়টুকু [তিনি] সবসময় অকাতরে অন্যকে দিতেন।"
  11. "কোনো সান্ত্বনার কথাই এর জন্য যথেষ্ট নয়। [শনিবার] তোমাদের বাজারটা আমি করে দিয়ে যাব; তোমাকে দরজা খুলতেও হবে না।"
  12. "তোমাকে নিয়ে [আঙ্কেলের] কত গর্ব ছিল, সবাই দেখতে পেত। খুব কষ্ট পেলাম।"

মা, বাবা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন, দাদা-দাদি বা পোষা প্রাণীর মৃত্যুতে শোক বার্তা

মা-বাবা, জীবনসঙ্গী, সন্তান, ভাই-বোন, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, কিংবা পোষা প্রাণী হারানোর শোক বার্তায় যিনি চলে গেছেন তাঁর নাম থাকবে, আর আপনি তাঁকে চিনলে একটা সত্যি স্মৃতি। প্রতিটির জন্য দুটি করে নিচে: একটি কাছের বন্ধু বা আত্মীয়ের জন্য, একটি এমন কারও জন্য যাঁকে আপনি কম চেনেন।

মায়ের মৃত্যুতে।

জেসমিন, আন্টির খবরে খুব কষ্ট পেলাম। রাহেলা আন্টিই প্রথম বড় মানুষ, যিনি আমার কথা এমনভাবে শুনতেন যেন আমার বলার মতো কিছু আছে। শনিবার বিকেলে চা-নাশতা নিয়ে আসছি; সেদিন মন না চাইলে বলে দিয়ো, অন্য দিন আসব।
প্রিয় অনিক, আপনার মায়ের মৃত্যুর খবরে খুব দুঃখ পেলাম। স্কুলের গেটে বাচ্চাদের আনতে গিয়েই শুধু তাঁকে চিনতাম, কিন্তু তিনি সবসময় আপনার বাচ্চাদের মতো আমার বাচ্চাদের দিকেও হাত নাড়তেন। আপনাদের সবার কথা ভাবছি।

সমবেদনাসহ, নাসিমা

বাবার মৃত্যুতে।

সুমাইয়া, তোমার আব্বু নেই, বিশ্বাসই হচ্ছে না। স্কুলের প্রতিটা অনুষ্ঠানে করিম চাচাকে এখনও দেখতে পাই, সবার আগে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। উত্তর দিতে হবে না; রবিবার ফোন করব, না ধরলেও কোনো সমস্যা নেই।
শ্রদ্ধেয় দেবাশীষ বাবু, আপনার বাবার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল একবারই, আপনার মেয়ের গ্র্যাজুয়েশনের দিন, আর তিনি দশ মিনিট ধরে আমার ছাদবাগানের গোলাপের খোঁজ নিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে দুঃখ পেলাম। আমার গভীর সমবেদনা জানবেন।

আলমগীর হোসেন

স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুতে। দুজনকে একসঙ্গে চিনলে সেটা বলুন: তাতে বিধবা বা বিপত্নীক মানুষটি জানেন, তাঁদের মধ্যে যা ছিল তা কেউ দেখেছে।

রোকেয়া আপা, খুব কষ্ট পেলাম। হাসান ভাই আপনাকে যে কতটা ভালোবাসতেন, তা কখনও লুকাতেন না। মঙ্গলবার সকাল দশটায় আসব বাজারটা করে দিতে, আর যতদিন দরকার, আসতেই থাকব।
প্রিয় জামান সাহেব, হুমায়রা আপার খবরটা শুনে খুব দুঃখ পেলাম। নিউ মার্কেটের দোকানে তিনিই আমাকে প্রথম শীতের শালটা বেছে দিয়েছিলেন, আর বিশ্রী রঙেরটা কিনতে দেননি। আমার গভীর সমবেদনা জানবেন।

ছেলে বা মেয়ের মৃত্যুতে। এখানে সবচেয়ে সংযত হয়ে লিখুন: সন্তানের নাম, আপনার দুঃখ, স্মৃতি থাকলে একটা, আর পাশে থাকার কথা। এর বেশি কিছু নয়।

রুমানা আর তানভীর, আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। নিজের বানানো খেলার নিয়ম বোঝাতে গিয়ে আয়ান প্রতিবার আমাদের হাসিয়ে ছাড়ত। আজও আমরা তোমাদের পাশে আছি, সামনের দিনগুলোতেও থাকব। উত্তর দিতে হবে না।
প্রিয় সুস্মিতা, ঈশিতার খবরে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আপনার আর আপনার পরিবারের কথা ভাবছি।

ভাই বা বোনের মৃত্যুতে।

রাজু, শাওন নেই, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। তোমার বিয়েতে তোমরা দুজন ক্রিকেট নিয়ে তর্ক করছিলে, আর খালাম্মা সবাইকে স্টেজে ছবি তুলতে ডেকেই যাচ্ছিলেন, সেটা কোনোদিন ভুলব না। আমার চেনা সবচেয়ে হইচই করা মানুষ ছিল ও, ওকে খুব মনে পড়বে।
প্রিয় লুবনা, তোমার বোনের খবরে খুব কষ্ট পেলাম। ওর কত গল্প তুমি আমাকে শুনিয়েছ, জানি ওকে তোমার কতটা মনে পড়বে।

দাদা-দাদি বা নানা-নানির মৃত্যুতে। বয়স হয়েছিল বলে, বা মৃত্যুটা প্রত্যাশিত ছিল বলে, একে ছোট শোক ভাববেন না।

মিম, তোমার নানুর খবরে খুব কষ্ট পেলাম। নানুই আমাদের পিঠা বানানো শিখিয়েছিলেন, আর আমার বানানো প্রতিটা বাঁকা পিঠা দেখে হাসতেন। জানি সবকিছুর জন্য তুমি তাঁর কাছেই যেতে।
প্রিয় ফাহিম, তোমার দাদার খবরে খুব দুঃখ পেলাম। জানি কতবার তুমি তাঁকে দেখতে গ্রামে যেতে, আর ওই যাওয়াগুলো তোমাদের দুজনের কাছে কত দামি ছিল।

আর পোষা প্রাণীর মৃত্যুতে। একটা বিড়াল বা কুকুর হারানোও সত্যিকারের শোক, আর প্রায়ই কেউ সেটা খেয়াল করে না।

তূর্য, মিনুর খবরে খুব কষ্ট পেলাম। চৌদ্দ বছর ধরে বিড়ালটা দরজায় তোমার অপেক্ষায় বসে থাকত। বাসাটা নিশ্চয়ই খুব চুপচাপ লাগছে।
প্রিয় মিসেস রোজারিও, পুসির খবরে দুঃখ পেলাম। আপনার সামনের জানালায় ওর ঘুমিয়ে থাকা আর দেখব না, ভাবতেই খারাপ লাগছে।

বন্ধু, সহকর্মী, বস, অধীন কর্মী, প্রতিবেশী বা প্রায় অচেনা কাউকে সমবেদনা বার্তা

বন্ধুকে লেখা সমবেদনা বার্তা উষ্ণ হতে পারে, একটা স্মৃতি আর একটা প্রস্তাবসহ; সহকর্মী বা বসকে লেখা শোক বার্তা ছোট আর একটু আনুষ্ঠানিক; আর যাঁকে প্রায় চেনেনই না, তাঁকে লেখা শুরু করুন নিজের পরিচয় দিয়ে।

দূরে থাকা এক বন্ধুকে।

নূপুর, চাচার খবরে খুব কষ্ট পেলাম, আর এত দূরে আছি বলে আরও খারাপ লাগছে। বৃষ্টির দিনে তিনি আমাকে রিকশা পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন, ছাতাটা নিজের মাথায় না ধরে আমার মাথায় ধরে, সেটা কোনোদিন ভুলব না। শুক্রবার ফোন করব, আর তারপরও করতেই থাকব।

সহকর্মীকে, আনুষ্ঠানিক সুরে। কাজের চিন্তাটা তাঁর মাথা থেকে নামিয়ে দিন।

প্রিয় সাবরিনা, আপনার বাবার মৃত্যুর খবর জেনে খুবই দুঃখ পেলাম। আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। যত দিন দরকার সময় নিন; এদিকের কাজ আমরা সামলে নেব।

ভালো থাকবেন, তাহমিদ

আপনার বসকে।

প্রিয় রফিক ভাই, আপনার মায়ের খবরটা শুনে খুব কষ্ট পেলাম। আল্লাহ খালাম্মাকে জান্নাতবাসী করুন। আপনি সবসময় আমাদের পরিবারের খোঁজ নেন, আর এই সপ্তাহে আমরা সবাই আপনার পরিবারের কথা ভাবছি।

সমবেদনাসহ, নুসরাত

অধীন কর্মীকে, তাঁর ম্যানেজারের কাছ থেকে। ছুটির ব্যবস্থা কীভাবে হবে তা নিজেই জানিয়ে দিন, যাতে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে না হয়।

প্রিয় সজীব, আপনার মা মারা গেছেন শুনে খুব খারাপ লাগল। আপনার কাজগুলো অন্যরা দেখছেন, আর এইচআর আজই আপনাকে ছুটির বিস্তারিত জানিয়ে দেবে। নিজেকে প্রস্তুত মনে না করা পর্যন্ত অফিসের কোনো কিছু নিয়ে একদম ভাববেন না।

সমবেদনাসহ, ফারহানা

অফিসের সবার পক্ষ থেকে একটা শোক কার্ড। একজন মূল বার্তাটা লেখেন, আর বাকি সবাই নিজের একটা সত্যি লাইন যোগ করেন।

প্রিয় রাশেদ, ডিজাইন টিমের আমরা সবাই তোমার বাবার খবরে খুব কষ্ট পেয়েছি। তোমার আর তোমার পরিবারের কথা ভাবছি, আর যখন মন চায়, তখনই ফিরে এসো।

তার নিচে:

  • "খুব খারাপ লাগছে, রাশেদ। চাচার মাছ ধরার গল্পগুলো শুনতে খুব ভালো লাগত।" মাহিন
  • "তোমার কথা ভাবছি। ফিরে এলে দুপুরে একসঙ্গে একটু হাঁটব, যেদিন চাও।" দীপ

প্রতিবেশীকে।

প্রিয় পারভীন ভাবি, আনোয়ার ভাইয়ের খবরে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। নয় বছর ধরে তিনি আমাদের সিঁড়ির বাতিটা নিজেই বদলে দিয়েছেন, আর একবারও মুখে আনেননি। কোথাও যেতে সঙ্গে কাউকে লাগলে শুধু দরজায় একটা টোকা দেবেন, যখন খুশি।

ভালো থাকবেন, মুনা ও শফিক

যাঁকে প্রায় চেনেনই না, যেমন চলে যাওয়া কোনো বন্ধুর পরিবার।

শ্রদ্ধেয় কাকু ও কাকিমা, আপনারা আমাকে চেনেন না, তবে কলেজে দুই বছর রসায়নের ক্লাসে আমি সৌরভের পাশে বসতাম। আমাদের স্যারকে হাসাতে পারত শুধু ও-ই। শুধু এটুকু জানাতে চাই, ওর আশেপাশের সবার কাছে ও কতটা প্রিয় ছিল।

গভীর সমবেদনাসহ, অর্পিতা সেন

সৌরভের পরিবারকে যা বলার, তার চেয়ে সৌরভকে বলার কথাই বেশি থাকলে, সেগুলোর জায়গা চলে যাওয়া কাউকে লেখা একটা চিঠিতে।

যিনি চলে গেছেন, তাঁর সঙ্গে কখনও দেখা না হয়ে থাকলে।

প্রিয় সানজিদা, তোমার আব্বুর সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি, তবু তোমার মধ্য দিয়ে মনে হয় তাঁকে একটু চিনতাম: প্রতি শুক্রবারের ফোন, বাসে ওঠার আগে তাঁর সাবধান করে দেওয়া, আর রাজশাহীতে তাঁর আমবাগানের কথা বলতে গেলে তোমার মুখটা যেভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠত। খুব কষ্ট পেলাম।

চলে যাওয়া সহকর্মীর পরিবারকে।

শ্রদ্ধেয় ভাবি, মাহবুব ভাইয়ের সঙ্গে আমি ছয় বছর কাজ করেছি; তাঁর চলে যাওয়ায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নতুন কেউ এলেই তাঁকে মাহবুব ভাইয়ের কাছে পাঠানো হতো, কারণ যে কোনো জিনিস তিনি দুবার বুঝিয়ে দিতেন, আর কখনও কাউকে ছোট করে কথা বলতেন না।

গভীর সমবেদনাসহ, কামরুন নাহার

মেসেজ, WhatsApp, Messenger, Facebook স্ট্যাটাস, ইমেইল বা কার্ডে শোক বার্তা: মাধ্যম বদলালে কী বদলায়

মেসেজে শোক বার্তা এক থেকে তিন লাইনের, ইমেইলে ছোট একটা অনুচ্ছেদের, আর কার্ডে তিন-চার লাইনের; কথাগুলো প্রায় একই থাকে, বদলায় শুধু দৈর্ঘ্য, সময়, আর যাঁকে লিখছেন তিনি ছাড়া আর কে কে সেটা পড়তে পারেন।

মাধ্যমকখন মানায়দৈর্ঘ্যযা এড়াবেন
হাতে লেখা কার্ড বা চিঠিপ্রায় সবসময়; পরিবার কার্ড আর চিঠি রেখে দেয়তিন-চার লাইন, ভালো চিনলে আরও বেশিশুধু নিজের নাম লেখা ছাপানো কবিতা
ফুল বা খাবারের সঙ্গে কার্ডযখন ফুল, গাছ বা রান্না করা খাবার পাঠাচ্ছেনএক-দুই লাইন আর আপনার পুরো নামছোট কার্ডে লম্বা বার্তা
মেসেজ, WhatsApp বা Messengerযাঁদের সঙ্গে এমনিতেই মেসেজে কথা হয়, প্রথম দিনগুলোতেএক থেকে তিন লাইনউত্তরের অপেক্ষা করা
ইমেইলসহকর্মী, ক্লায়েন্ট, যাঁদের সঙ্গে সাধারণত ইমেইলেই যোগাযোগছোট একটা অনুচ্ছেদঅফিসের কাজের মতো দেখতে সাবজেক্ট
Facebook পোস্ট বা কমেন্টপরিবার খবরটা বা শোক সংবাদ পোস্ট করার পরেএক-দুই লাইননিজেই খবরটা প্রথম জানিয়ে দেওয়া, বা কী হয়েছিল জিজ্ঞেস করা
ফোনকাছের বন্ধু আর পরিবারকয়েক মিনিটউল্টে তাঁদেরই আপনাকে সান্ত্বনা দিতে বাধ্য করা
বাসায় গিয়ে দেখা করাকাছের বন্ধু আর প্রতিবেশী, খাবার বা সাহায্য নিয়েঅল্প সময়, যদি না তাঁরা থাকতে বলেনচা-নাশতার আশা করা

ফুলের সঙ্গে দোকানের কার্ড।

ভালোবাসা আর গভীর সমবেদনাসহ। প্রতি ঈদের দাওয়াতে জাহিদ ভাইকে আমাদের খুব মনে পড়বে।

রঞ্জন ও মৌসুমী দত্ত

মেসেজ, WhatsApp বা Messenger-এ।

রিয়া, আন্টির খবরে খুব কষ্ট পেলাম। শিখা আন্টি সবসময় আমাকে বাড়ির একজনের মতোই দেখতেন। উত্তর দিতে হবে না; সপ্তাহের শেষ দিকে ফোন করব।

ইমেইলে, "আপনার কথা ভাবছি"-র মতো একটা সাবজেক্ট দিয়ে।

প্রিয় তৌফিক ভাই, এইমাত্র শম্পা ভাবির খবরটা শুনলাম, খুব দুঃখ পেলাম। অফিসের বার্ষিক পিকনিক শেষ হওয়ার আগেই তিনি সবার নাম জেনে গিয়েছিলেন, আমারটাও। আপনি ফেরা পর্যন্ত আপনার ক্লায়েন্টদের দিকটা আমি সামলাব, অন্তত এই একটা কাজ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।

সমবেদনাসহ, পলাশ

পরিবারের পোস্টের নিচে একটা মন্তব্য। খবরটা এখনও প্রকাশ্যে না এলে আপনি সেটা পোস্ট করবেন না: খবরটা জানানোর অধিকার পরিবারের, আর মৃত্যু সংবাদ জানানো নিয়ে আমাদের নির্দেশিকা তাঁদের জন্যই লেখা।

খুব কষ্ট পেলাম, সাকিব। আমাদের পাড়ার অর্ধেক ছেলেমেয়েই ছিল মিজান স্যারের ক্রিকেট দলে, আমিও, আর মাঠের ধার থেকে তাঁর "বল দেখে খেলো!" চিৎকার এখনও কানে বাজে। তোমাদের সবার কথা ভাবছি।

নিজের স্ট্যাটাস বা ক্যাপশন। পরিবার খবরটা জানানোর পরে অনেকে নিজের Facebook-এ ছোট একটা শোক বার্তা দেন। তাতে নাম, মানুষটিকে নিয়ে একটা সত্যি কথা আর একটা দোয়া বা শুভকামনাই যথেষ্ট; মৃত্যুর কারণ নয়, আর পরিবার নিজে দেয়নি এমন ছবিও নয়।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমাদের স্কুলের বাংলার শিক্ষক হাফিজ স্যার আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন। তিনিই প্রথম আমাকে বলেছিলেন, আমার লেখা পড়তে তাঁর ভালো লাগে। তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা, আর তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

কখন ফোনও করবেন, বা দেখা করতে যাবেন। মানুষটি খুব কাছের হলে আগে ফোন করুন, তারপর লিখুনও; AARP-এর নির্দেশিকায় Emily Post-এর শিষ্টাচার বইয়ের অন্যতম লেখক Daniel Post Senning বলেছেন, এখানে একটা বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নেই, দুটোই করুন। কাছে থাকলে খাবার বা সাহায্য নিয়ে গিয়ে দেখা করে আসুন।

ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ শোক বার্তা: ইসলামিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি ও শিখ

ধর্মীয় কথা ব্যবহার করুন কেবল তখনই, যখন সেটা পরিবারের নিজের ধর্মের; নইলে সাদামাটা সমবেদনাই ঠিক। অন্য ধর্মের বন্ধুকে লিখলে তাঁদের প্রচলিত কথাটা ব্যবহার করতে পারেন, যেমন হিন্দু বন্ধুর বাবার মৃত্যুতে "তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি", যদি সেটা আপনার কাছে স্বাভাবিক লাগে। নিজের ধর্মতত্ত্ব কখনও জুড়ে দেবেন না: Humanists UK অনুরোধ করে, শোকে থাকা মানুষের ওপর পরকাল নিয়ে নিজের বিশ্বাস, বা অবিশ্বাস, চাপিয়ে দেবেন না। এই কথাগুলো প্রচলিত, বাধ্যতামূলক নয়।

ঐতিহ্যমানুষ যে কথাটা বলেনএর অর্থকখন মানায়
মুসলিম"ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" (إنا لله وإنا إليه راجعون)"আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী", কুরআন, ২:১৫৬, তাইসিরুল কুরআনের বাংলা অনুবাদেযে কোনো মৃত্যু বা বিপদের খবরে; বার্তার স্বাভাবিক প্রথম লাইন
মুসলিম"আ'যামাল্লাহু আজরাকুম" (أعظم الله أجركم)"আল্লাহ আপনাদের প্রতিদান বাড়িয়ে দিন", শোকার্তের জন্য একটি দোয়া, যেমন Yaqeen Institute ব্যাখ্যা করেপরিবারকে; কোনো বাঁধা শব্দ নেই, আর IslamQA-র বাংলা উত্তর বলে, বিপদগ্রস্ত মানুষকে শান্ত করে আর ধৈর্য দেয় এমন যে কোনো কথাতেই সান্ত্বনা দেওয়া যায়
মুসলিম, বাংলাদেশে প্রচলিত"তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি"যিনি চলে গেছেন, তাঁর আত্মার জন্য আল্লাহর ক্ষমা চাওয়াবার্তার শেষে, বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক শোক বার্তায়; ঘরোয়া রূপ "আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন", আর পরিবারের জন্য "আল্লাহ আপনাদের সবর করার তৌফিক দিন"
হিন্দু"ওঁ শান্তি""ওঁ, শান্তি"; শান্তি শব্দটি প্রায়ই তিনবার বলা হয়হিন্দু পরিবারকে কার্ডে বা বার্তায়
হিন্দু, আর অনেক ধর্মনিরপেক্ষ বার্তায়"তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি"যিনি চলে গেছেন, তাঁর আত্মা যেন শান্তি পায়বার্তার শেষে; বাংলা সংবাদমাধ্যমের শোকের খবরেও প্রচলিত কথা
বৌদ্ধ (থেরবাদ)"অনিচ্চা বত সঙ্খারা" (Anicca vata sankhara)"সব সংস্কারই অনিত্য, হায়", ভিক্ষু বোধির ইংরেজি অনুবাদ অনুযায়ীথেরবাদী বৌদ্ধরা এভাবেই মৃত্যুর খবর দেন; পরিবার বললে আপনিও বলুন
ক্যাথলিক"Eternal rest grant unto her, O Lord", বাংলা অর্থ: হে প্রভু, তাঁকে চিরবিশ্রাম দাওমৃতদের জন্য Eternal Rest প্রার্থনার শুরুর কথাকার্ডে; কেউ কেউ তাঁর জন্য একটি প্রার্থনাসভার ব্যবস্থা করেন আর সেটা জানিয়ে একটি Mass card পাঠান
প্রোটেস্ট্যান্ট ও অন্য খ্রিস্টান"ধন্য যারা দুঃখ করে, কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে"মথি ৫:৪; বাংলা পাঠ ইন্ডিয়ান রিভাইজড ভার্সন (IRV) থেকেকার্ডে; এর সাদামাটা রূপ "আপনাদের জন্য প্রার্থনা করছি"
অর্থোডক্স খ্রিস্টান"Memory eternal", চিরস্মৃতিঈশ্বর যেন মানুষটিকে চিরকাল মনে রাখেন, সেই প্রার্থনা, যেমন Orthodox Church in America ব্যাখ্যা করে; স্লাভোনিকে Vechnaya pamyat, গ্রিকে Aionia i mnimiকার্ডে, আর শেষকৃত্য ও স্মরণসভার শেষে গাওয়া হয়
ইহুদি"তাঁর স্মৃতি আশীর্বাদ হোক" (zichrona livracha)নামের পরে বলা হয়; পুরুষের জন্য zichrono livracha, লেখায় z"l, যেমন ReformJudaism.org ব্যাখ্যা করেকার্ডে বা বার্তায়
ইহুদি"HaMakom yenachem etchem betoch she'ar avelei Tziyon viYerushalayim""সিয়োন ও জেরুজালেমের অন্য শোকার্তদের মাঝে ঈশ্বর আপনাদের সান্ত্বনা দিন", My Jewish Learning-এর অনুবাদেশিভা (দাফনের পরের সাত দিনের শোকপালন) চলাকালে শোকার্তের বাড়ি ছাড়ার সময় বলা হয়। সেফার্দি পরিবারগুলো প্রায়ই এর বদলে বলে "Min hashamayim tenuchamu", স্বর্গ থেকে আপনারা সান্ত্বনা পান
শিখ"Waheguru""বিস্ময়কর প্রভু", শিখরা ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি যে নামে ডাকেনমৃত্যুর সময় শোকার্তরা বলেন; পরিবার বললে তবেই বলুন, আর বার্তা শান্ত রাখুন, কারণ শিখদের আচরণবিধি, Rehat Maryada, শোকার্তদের বিলাপ না করে ঈশ্বরের ইচ্ছা মেনে নিতে বলে
ধর্ম নেই, বা আপনি জানেন না"তোমার কথা ভাবছি, আর তাঁকে খুব মনে পড়ছে"সাদামাটা সমবেদনাযে কাউকে

সাতটি ঐতিহ্যের প্রতিটির জন্য একটি করে পূর্ণ বার্তা:

মুসলিম।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রেজা, চাচার খবরে খুব কষ্ট পেলাম। প্রতি ঈদে তিনি আমাকে তোমাদের বাসায় নিজের ছেলের মতো বসাতেন, সেমাই না খাইয়ে উঠতে দিতেন না। আল্লাহ চাচাকে জান্নাতবাসী করুন, আর তোমাদের সবাইকে সবর করার তৌফিক দিন।

হিন্দু।

ওঁ শান্তি। সুদীপ, মাসিমার খবরে খুব কষ্ট পেলাম। তোমাদের বাড়িতে যতবার গেছি, খিদে থাকুক বা না থাকুক, মাসিমা না খাইয়ে ছাড়েননি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

বৌদ্ধ।

অনিচ্চা বত সঙ্খারা। প্রিয় শুভ্র, তোমার দাদুর খবরে খুব দুঃখ পেলাম। প্রবারণা পূর্ণিমায় তিনি পাড়ার সব ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিহারে ফানুস ওড়াতেন, আর সবার ফানুসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তবেই নিজেরটা ছাড়তেন।

ক্যাথলিক।

প্রিয় রিনা, তোমার মায়ের খবরে খুব কষ্ট পেলাম। ফাদার ডেভিডকে বলেছি আমাদের গির্জায় তাঁর জন্য একটা প্রার্থনাসভা করতে; কার্ডটা সঙ্গে দিলাম। হে প্রভু, তাঁকে চিরবিশ্রাম দাও।

ভালোবাসা আর প্রার্থনাসহ, জুলিয়েট

প্রোটেস্ট্যান্ট বা অন্য খ্রিস্টান।

সুজন, দিদিমার খবরে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। গির্জার গানের দলে দিদিমার গলা ছাড়া গানগুলো আর আগের মতো শোনাবে না। ধন্য যারা দুঃখ করে, কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে। তোমাদের সবার জন্য প্রার্থনা করছি।

ভালোবাসাসহ, অমল ও দীপালি

ইহুদি।

প্রিয় মিরিয়াম, তোমার বাবার খবরে খুব কষ্ট পেলাম। সেডারের টেবিলে শাউল চাচার সেই তিনটা পুরোনো কৌতুক, আর নিজের কৌতুকে নিজেরই সবচেয়ে জোরে হাসা, খুব মনে পড়বে। তাঁর স্মৃতি আশীর্বাদ হোক।

ধর্ম নেই, বা যখন জানেন না।

তিথি, বাবলু ভাইয়ের খবরে মনটা খুব খারাপ। তাঁর সেই মজার মজার কথা আর হাতের দারুণ খিচুড়ি, দুটোই খুব মনে পড়বে। শনিবার স্মরণসভায় দেখা হবে।

হঠাৎ বা অকাল মৃত্যু, আত্মহত্যা, শিশু বা নবজাতকের মৃত্যু, কিংবা দীর্ঘ অসুস্থতার পরে শোক বার্তা

হঠাৎ মৃত্যু, আত্মহত্যা, শিশুর মৃত্যু বা দীর্ঘ অসুস্থতার পরে কম লিখুন, বেশি নয়: মানুষটির নাম, আপনার দুঃখ, আর কীভাবে ঘটল তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নয়।

হঠাৎ বা অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। পরিবার ধাক্কার মধ্যে আছে, আর হয়তো নিজেরাও সব খুঁটিনাটি জানে না।

পাপিয়া, আমিই এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, তোমার কেমন লাগছে ভাবতেও পারছি না। ইমনের খবরে খুব কষ্ট পেলাম। কিছু বলতে হবে না। কাল খোঁজ নেব, পরশুও।

আত্মহত্যায় মৃত্যু। মানুষটির নাম লিখুন, আর লিখুন তিনি কেমন মানুষ ছিলেন, তাঁর জীবনের কথা। কেন, তা অনুমান করবেন না ("অভিমান করে", "পরীক্ষার চাপে" জাতীয় কথাও নয়): শোক-সহায়তা সংস্থা At a Loss সতর্ক করে যে কারণ নিয়ে জল্পনা পরিবারের কষ্ট বাড়াতে পারে, আর পরিবারের নিজের কথাগুলো অনুসরণ করতে বলে। দোষ বা অপরাধের সুর আছে এমন শব্দ এড়িয়ে চলুন: ইংরেজিতে "committed" শব্দটা ঠিক এই কারণেই International Association for Suicide Prevention নিরুৎসাহিত করে, আর তার বদলে "died by suicide" বলতে বলে, বাংলায় "আত্মহত্যায় মারা গেছেন", যদিও বেশির ভাগ বার্তায় এর কোনোটাই লাগে না।

দিনা, অয়নের খবরে খুব কষ্ট পেলাম। কক্সবাজার যাওয়ার সময় ও আমার জন্য যে গানের তালিকাটা বানিয়ে দিয়েছিল, সেটা এখনও আছে, আজ সারা দিন সেটাই শুনছি। তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করব না। ওকে নিয়ে কথা বলতে চাইলে আমি আছি, আর অন্য যে কোনো কিছু নিয়ে বলতে চাইলে তার জন্যও আছি।
প্রিয় চৌধুরী ভাই ও ভাবি, তন্ময়ের খবরে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। ও দুই বছর আমার ছেলের ফুটবল দলের কোচ ছিল, আর ছেলেরা এখনও ওর শেখানো জয়ের নাচটা নাচে।

গভীর সমবেদনাসহ, শারমিন আক্তার

শেষকৃত্যের পরেও খোঁজ নিতে থাকুন: At a Loss লক্ষ করে যে আত্মহত্যায় কাউকে হারানো মানুষ কখনও কখনও নিজেরাও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কেউ কেমন সামলাচ্ছেন তা নিয়ে চিন্তা হলে সেটা বলুন, আর সাহায্য খুঁজে পেতে তাঁর পাশে থাকুন: Find A Helpline-এ তাঁর দেশের বিনামূল্যের, গোপন হেল্পলাইনের তালিকা আছে। বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রতিরোধ আর মানসিক সহায়তার একটি পরিচিত হেল্পলাইন "কান পেতে রই"।

শিশুর, বা নবজাতকের মৃত্যু। শিশুর জন্য উপরের বার্তাগুলো দেখুন। জন্মের আগে বা জন্মের পরপরই মারা যাওয়া শিশুর ক্ষেত্রে, মৃত সন্তান প্রসব আর নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যের সংস্থা Sands বন্ধুদের মনে করিয়ে দেয়, মা-বাবার কাছে শিশুটি সত্যিকারের একজন মানুষ ছিল: তাঁরা নাম রেখে থাকলে নামটা লিখুন, আর মা-বাবা দুজনকেই লিখুন; তাঁরা প্রায়ই কার্ডগুলো রেখে দেন।

প্রিয় নীলা ও অভি, আরশির খবরে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য আমরা কত অপেক্ষা করে ছিলাম। আরশিকে আমরা কোনোদিন ভুলব না।

গর্ভের সন্তান হারানোর পরে, যুক্তরাজ্যের Miscarriage Association ক্ষতিটা স্বীকার করতে আর দুঃখিত বলতে পরামর্শ দেয়। অনেকের কাছে, যদিও সবার কাছে নয়, সেটা ছিল একটা শিশুকে হারানো, যত আগেই হোক, তাই তাঁদের নিজের কথাগুলোই অনুসরণ করুন। সংস্থাটি এটাও মনে করিয়ে দেয় যে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখটা কঠিন একটা দিন হতে পারে। দিনটা নিজের ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন।

মৌ, তোমার বাবুটার জন্য খুব কষ্ট পেলাম। জানি ওকে তুমি এর মধ্যেই কতটা ভালোবেসে ফেলেছিলে। তোমার আর রাতুলের কথা ভাবছি, আর কথা বলতে চাইলে, বা চুপ করে থাকতে চাইলে, যখনই চাও আমি আছি।

দীর্ঘ অসুস্থতার পরে। সবাই আগে থেকে টের পেলেও ক্ষতিটা ছোট হয় না। "কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন" বলবেন না; পরিবার নিজে বললে বলতে দিন। সেবাযত্নের কথাটা অবশ্যই বলুন।

প্রিয় শাহনাজ আপা, মোস্তফা ভাইয়ের খবরে খুব কষ্ট পেলাম। তিন বছর আপনি কী ধৈর্য নিয়ে তাঁর সেবা করেছেন, আর যে-ই দেখতে গেছে সে-ই বুঝেছে তিনি আপনাকে কতটা ভালোবাসতেন। শুক্রবার দুপুরের খাবার নিয়ে আসব।

শোক বার্তায় বা জানাজা-শেষকৃত্যে কী বলবেন না, আর তার বদলে কী বলবেন

মৃত্যুটার ব্যাখ্যা দেয়, তুলনা করে, বা পরিবারকে ভালো বোধ করতে বলে, এমন সব কথা বাদ দিন। কষ্ট দেওয়া অনেক কথাই শুরু হয় "অন্তত", "আমি জানি তোমার কেমন লাগছে" বা "যা হয় ভালোর জন্যই হয়" দিয়ে।

বলবেন নাতার বদলে বলুন
"অন্তত উনি অনেক দিন বেঁচেছেন।""অষ্টাশি বছর, তবু জানি, তোমার কাছে এটা খুব কম সময়।"
"আমি জানি তোমার কেমন লাগছে।""তোমার কেমন লাগছে আমি জানতে পারব না, কিন্তু আমি আছি।"
"যা হয় ভালোর জন্যই হয়।""খুব কষ্ট পেলাম। ইশ, এই কষ্টটা যদি তোমাকে পেতে না হতো।"
"কিছু লাগলে জানিয়ো।""শনিবার বাজারে যাচ্ছি, তোমার দরকারি জিনিসগুলো নিয়ে আসব। অন্য দিন ভালো হলে বলো।"
"উনি এখন আরও ভালো জায়গায় আছেন।" (যদি না এটা তাঁদের বিশ্বাস হয় আর তাঁরাই আগে বলেন।)"উনি নেই, খুব কষ্ট লাগছে। কত মানুষ তাঁকে ভালোবাসত।"
"ভালোই হলো, কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন।""এত দিন ধরে তুমি তাঁর কত যত্ন নিয়েছ।"
"সময়ে সব ঠিক হয়ে যায়।""যত দিনই লাগুক, আমি পাশে থাকব।"
"তুমি তো খুব শক্ত মানুষ।""আমার সামনে শক্ত থাকতে হবে না।"
"কীভাবে হলো?""[নাম]-এর খবরে খুব কষ্ট পেলাম।" বলতে চাইলে তাঁরা নিজেরাই বলবেন।
"আমার বাবা যখন মারা গেলেন...""তোমার বাবার কথা খুব মনে পড়ছে, আর তোমার কথাও।" নিজের হারানোর গল্প অন্য দিনের জন্য রাখুন।
"আবার বাচ্চা হবে।" বা: "অন্তত তোমার অন্য সন্তানরা তো আছে।""[শিশুর নাম, বা তোমার বাবু]-র জন্য খুব কষ্ট পেলাম।"

এর কয়েকটা কথা সরাসরি শোক-সহায়তা সংস্থাগুলোর নিজেদের তালিকা থেকে নেওয়া: কারও কেমন লাগছে তা জানেন বলে ধরে নেওয়া আর ঝাপসা সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে Cruse, মা-বাবাকে আবার বাচ্চা হবে বলা নিয়ে Sands, আর "অন্তত" ও "যা হয় ভালোর জন্যই হয়" নিয়ে Miscarriage Association। AARP-এর নির্দেশিকা যোগ করে "সময়ে সব ঠিক হয়ে যায়" আর নিজের হারানোর গল্প।

কেউ মারা গেলে কী বলবেন: শোকের বাড়ির দরজায়, জানাজায় বা শেষকৃত্যে

কেউ মারা গেলে সামনাসামনি "খুব কষ্ট পেলাম" আর চলে যাওয়া মানুষটিকে নিয়ে একটা বাক্যই যথেষ্ট; বাকিটা আপনার উপস্থিতিই বলে দেয়।

  • দরজায়, খাবার হাতে। "খুব কষ্ট পেলাম। একটু খাবার এনেছি; আজ বেশিক্ষণ বসব না।"
  • পরিবারের সঙ্গে প্রথম দেখায়। নিজের নাম বলুন আর কীভাবে চিনতেন: "আমি জুবায়ের। আন্টির সঙ্গে দশ বছর এক অফিসে কাজ করেছি, আমাকে খুব স্নেহ করতেন।"
  • কিছুই মুখে না এলে। "কী বলব জানি না। শুধু খুব কষ্ট লাগছে।" এটুকুই যথেষ্ট।
  • পরিবারের কিশোর বা কিশোরীকে। "তোমার আব্বু সারাক্ষণ তোমার কথা বলতেন। খুব কষ্ট পেলাম।" শুধু যদি সত্যিই বলতেন।
  • মুসলিম পরিবারের বাড়িতে। "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন", তারপর "খুব কষ্ট পেলাম", বা দুটোর যে কোনো একটা। খাবার নিয়ে যাওয়ার রীতিটা পুরোনো: Yaqeen Institute শোকার্ত পরিবারকে খাওয়ানোর উৎস খুঁজে পায় মহানবী (সা.)-এর সেই নির্দেশে, যেখানে তিনি জাফর (রা.)-এর পরিবারের জন্য খাবার পাঠাতে বলেছিলেন।
  • হিন্দু পরিবারের বাড়িতে বা শ্মশানে। "খুব কষ্ট পেলাম", আর পরিবারের রীতি জানলে "ওঁ শান্তি"। শ্রাদ্ধের আগে অনেক পরিবার আমিষ খায় না, তাই খাবার নিয়ে গেলে আগে জেনে নিন।
  • শিভা চলাকালে শোকার্তের বাড়িতে, যেখানে ইহুদি পরিবার দাফনের পরের সপ্তাহে অতিথিদের গ্রহণ করে, অতিথিরা প্রথাগতভাবে শোকার্ত মানুষটি আগে কথা না বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, আর যাওয়ার সময় HaMakom-এর কথাগুলো বলেন।
  • বিদায়ের সময়। "সামনের সপ্তাহে ফোন করব।" তারপর সত্যিই করুন।

কান্না পেলে কাঁদুন, তাতে দোষ নেই; চোখের জল পরিবারকে দেখায় মানুষটি কতটা ভালোবাসা পেয়েছিলেন। বলুন "উনি আমাদেরও খুব আপন ছিলেন", আর পেছনের মানুষদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিন। দেরিতে পৌঁছালে পেছনের দিকে বসুন, পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন, আর একবারই দুঃখ প্রকাশ করুন: "শুরুতে আসতে পারিনি, দুঃখিত।"

আসতে না পারলে লিখুন, আর জানান যে সেই সময়টায় আপনি তাঁদের কথা ভাবছিলেন।

প্রিয় ফেরদৌসী আপা, জসিম ভাইয়ের জানাজায় থাকতে পারিনি, খুব খারাপ লাগছে। বাদ যোহর জানাজার সময়টায় হাতের কাজ থামিয়ে আপনাদের সবার কথা ভেবেছি, তাঁর জন্য দোয়া করেছি। সব একটু শান্ত হলে দেখা করতে আসতে চাই; সামনের সপ্তাহে ফোন করব।

শোকবই খোলা হলে, যেমন অফিস, স্কুল বা কোনো প্রতিষ্ঠানের শোকসভায়, এক লাইন লিখুন আর পুরো নাম, যাতে পরিবার পরে বুঝতে পারে কে কে এসেছিলেন।

নয় বছর বয়সে জসিম ভাই আমাকে দাবা খেলা শিখিয়েছিলেন, আর এখনও প্রতিটা খেলা আমি তাঁর দেখানো চালেই শুরু করি। আপনাদের সবার কথা ভাবছি।

রাকিব হাসান

শেষকৃত্যে বা স্মরণসভায় কিছু বলতে বলা হলে, দেখুন শোকসভায় বলার মতো ছোট বক্তৃতার উদাহরণ।

দেরিতে সমবেদনা: কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরে লেখা

মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পরেও সমবেদনা জানাতে দেরি হয়ে যায় না। AARP-এর নির্দেশিকা বলে, সবচেয়ে ভালো এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে, তবে লেখার জন্য কখনও দেরি হয় না।

মুসলিম পরিবারে অনেকে জানতে চান, কত দিন পর্যন্ত সান্ত্বনা জানানো যায়। এ নিয়ে দুই রকম মতই আছে: ইসলামওয়েবের একটি ফতোয়া (আরবি ভাষায়) জানায়, অধিকাংশ ফকিহ সান্ত্বনা জানানো তিন দিনে সীমিত রাখেন, তবে যিনি দূরে ছিলেন তিনি দেখা হলেই জানাতে পারেন; অন্যদিকে IslamQA-র বাংলা উত্তরে শায়খ ইবনে বাযের মত, সান্ত্বনা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। কোন মত মানবেন, তা পরিবারের আলেম বা ইমামকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

দেরির বার্তা প্রায়ই কম নয়, বরং বেশি অর্থবহ: প্রথম দিকের কার্ড আর মেসেজ থেমে যাওয়ার পরে সেটা আসে। দেরির জন্য একবারই দুঃখ প্রকাশ করুন, তারপর মানুষটিকে নিয়ে লিখুন।

সবে খবরটা পেয়ে থাকলে।

প্রিয় মতিন ভাই, মাত্রই মোড়ের দোকানের হারুন ভাইয়ের কাছে রেহানা ভাবির খবরটা শুনলাম। খুব কষ্ট পেলাম, আর এত দেরিতে লিখছি বলেও দুঃখিত। ভাতিজির গায়ে হলুদে আপনাদের দুজনের সেই গান সবসময় মনে থাকবে; সুর মিলুক না মিলুক, দুজনের মুখে যে আনন্দ ছিল, তা ভোলার নয়।

ভালো থাকবেন, সেলিনা

কয়েক মাস আগেই লিখবেন ভেবেছিলেন।

প্রিয় জাকিয়া, তোমার মা চলে যাওয়ার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ভেবেছি লিখব, আর এত দিন লেগে গেল বলে দুঃখিত। কী বলব বুঝতে পারিনি, এখনও পারি না, শুধু এটুকু জানি যে তিনি যে লাইব্রেরিতে কাজ করতেন তার সামনে দিয়ে গেলেই তাঁর কথা মনে পড়ে। এই মাসে একদিন তোমাকে দুপুরে খাওয়াতে নিয়ে যেতে চাই, তোমার যেদিন সুবিধা; এখনই উত্তর দিতে হবে না।

প্রথম ঈদ, পূজা বা বড়দিনও আবার লেখার একটা ভালো সময়, আর প্রিয়জনকে ছাড়া প্রথম বড়দিন নিয়ে আমাদের নির্দেশিকার কথাগুলো যে কোনো উৎসবেই কাজে লাগে।

পরে আবার লেখা: ছয় মাসের বার্তা

মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পরে আবার লিখুন, যখন কার্ড আর মেসেজ আসা থেমে গেছে; সেই দ্বিতীয় বার্তাটাই হয়তো আপনার পাঠানো সবচেয়ে কাজের শোক বার্তা। Cruse লক্ষ করে, শেষকৃত্যের পরে সাহায্য আর খোঁজখবর নিতে আসা মানুষ কমে আসতে পারে, ঠিক যখন সপ্তাহ আর মাসগুলো আরও কঠিন লাগতে শুরু করে। প্রথম বার্তাটা পাঠানোর আগেই নিজের ক্যালেন্ডারে মানুষটির নাম লিখে রাখুন: ছয় মাসে, প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আর তাঁর জন্মদিনে। মৃত্যুবার্ষিকীতে কী বলবেন আর চলে যাওয়া মানুষের জন্মদিন নিয়ে আমাদের নির্দেশিকায় সেই দিনগুলোর কথা আছে।

রুপা, অর্ণব চলে যাওয়ার ছয় মাস হলো, আর ওকে এক দিনের জন্যও ভুলতে পারিনি; বিশেষ করে মনে পড়ে সেই দিনটার কথা, যেদিন তুমি বিড়ালটা ফেলে এসেছিলে আর ও চার ঘণ্টা বাসে চড়ে সেটাকে তোমার কাছে নিয়ে এসেছিল। উত্তর দিতে হবে না। আমি এখনও আছি, আর এই শুক্রবার তোমাকে ফোন করব।

সেই বার্তাটা আপনি এখনই লিখে রাখতে পারেন, এমন কথায় যা ছয় মাস পরেও সত্যি থাকবে। Goodbye App-এ আপনি একটা চিঠি লেখেন, চাইলে একটা ভয়েস রেকর্ডিং জুড়ে দেন, আর আপনার বেছে নেওয়া দিনে, বেছে নেওয়া ঘণ্টায় সেটা ইমেইলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন; সেই দিনটা আজ থেকে ৩০ বছর পর পর্যন্ত যে কোনো দিন হতে পারে। পাঠানোর আগ পর্যন্ত এটা ব্যক্তিগত থাকে, আর এর কোনো খরচ নেই। প্রতিটা চিঠি একবারই পৌঁছায়, তাই ছয় মাসের বার্তা আর মৃত্যুবার্ষিকীর বার্তা দুটো আলাদা চিঠি।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রিয়জন হারানো মানুষকে কী বলবেন? বলুন যে খবরটা শুনে আপনি কষ্ট পেয়েছেন, সঙ্গে চলে যাওয়া মানুষটির নাম আর তাঁকে নিয়ে একটা সত্যি কথা: "[নাম]-এর খবরে খুব কষ্ট পেলাম। [তাঁর হাসিটা] খুব মনে পড়বে।" তারপর তাঁদের কাছে কিছুই চাইবেন না। সাদামাটা "গভীর সমবেদনা জানাই"-ও চলে; নামটা আর নিজের একটা লাইন যোগ করলেই সেটা আর ফর্ম পূরণের মতো শোনায় না।

মেসেজে শোক বার্তা পাঠানো কি ঠিক? হ্যাঁ, যাঁদের সঙ্গে এমনিতেই মেসেজে কথা হয় তাঁদের প্রথম বার্তা হিসেবে: এক থেকে তিন লাইন, কোনো উত্তরের দরকার ছাড়া। কাছের মানুষ হলে তারপর ফোন করুন, বা দেখা করে আসুন।

কত তাড়াতাড়ি শোক বার্তা পাঠাবেন? খবর পাওয়ার দিনই, বা প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে হলে সবচেয়ে ভালো; মুসলিম পরিবারে অনেকে প্রথম তিন দিনের মধ্যেই সমবেদনা জানান। দেরি হয়ে গেলেও লিখুন: দেরির বার্তারও মূল্য আছে।

যাঁকে ভালো চেনেন না, তাঁকে শোক বার্তায় কী লিখবেন? লিখুন আপনি কে, মানুষটিকে কীভাবে চিনতেন, আর তাঁর মৃত্যুতে আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন: "পাঁচ বছর ধরে প্রতি সন্ধ্যায় পাড়ার ক্লাবে আপনার বাবার সঙ্গে ক্যারম খেলতাম, আর আমার মতো আনাড়ি সঙ্গীর সঙ্গেও তিনি সবসময় হাসিমুখে খেলতেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানাই।"

ইসলামে কেউ মারা গেলে কী বলতে হয়? মুসলিমরা সাধারণত শুরু করেন "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" দিয়ে, অর্থাৎ আমরা আল্লাহরই আর তাঁরই দিকে ফিরে যাব, তারপর মরহুম আর পরিবারের জন্য দোয়া করেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রচলিত দুটি: মরহুমের জন্য "আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন", আর পরিবারের জন্য "আল্লাহ আপনাদের সবর করার তৌফিক দিন"। আনুষ্ঠানিক বার্তায় মরহুমের জন্য লেখা হয় "তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি", আর আরবিতে পরিবারের জন্য "আ'যামাল্লাহু আজরাকুম", আল্লাহ আপনাদের প্রতিদান বাড়িয়ে দিন। কোনো বাঁধা শব্দ নেই, আর সান্ত্বনা দেয় এমন যে কোনো কথাই চলে।

হিন্দু রীতিতে মৃত্যু সংবাদ শুনলে কী বলতে হয়? সব পরিবারে মানা হয় এমন বাঁধা কোনো একটি কথা নেই। অনেকে বলেন বা লেখেন "ওঁ শান্তি", আর বাংলাদেশে খুব প্রচলিত "তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি" (পশ্চিমবঙ্গে অনেকে বলেন "আত্মার সদ্গতি কামনা করি")। তারপর বাকিটা যে কোনো শোক বার্তার মতোই: নাম, একটা স্মৃতি, আর কিছু না চাওয়া একটা শেষ।

ইংরেজিতে শোক বার্তা: "my condolences" কীভাবে বলবেন? শোক প্রকাশ ইংরেজিতে condolence, আর সমবেদনা sympathy। কার্ডে বা আনুষ্ঠানিক বার্তায় লিখুন "My condolences" বা "With deepest sympathy", আর যে কাউকে বলার মতো সহজ কথা "I'm so sorry for your loss"। যে কোনো ভাষার মতোই, মানুষটির নাম আর নিজের একটা লাইন যোগ করুন।

শোক বার্তার শেষে কীভাবে সই করবেন? পরিবার আর কাছের বন্ধুদের জন্য "ভালোবাসাসহ"; অন্যদের জন্য "সমবেদনাসহ", "তোমার কথা ভাবছি" বা "ভালো থাকবেন"; বয়সে বড় কাউকে "শ্রদ্ধাসহ"; আনুষ্ঠানিক কার্ডে "গভীর সমবেদনাসহ"; আর একই বিশ্বাসের হলে "দোয়া রইল" বা "প্রার্থনাসহ"। কোন রুমা লিখছেন, তা তাঁরা না বুঝতে পারলে পুরো নামটা দিন।

Facebook-এ শোক বার্তা বা স্ট্যাটাস দেওয়া কি ঠিক? হ্যাঁ, পরিবার খবরটা জানানোর পরে। নিজের আলাদা পোস্ট না দিয়ে তাঁদের পোস্টে মন্তব্য করাই ভালো; নিজের স্ট্যাটাস দিলে পরিবার যা জানিয়েছে তার বাইরে কোনো তথ্য, যেমন মৃত্যুর কারণ, দেবেন না, আর ব্যক্তিগত কথা Messenger-এ পাঠান।

শোক বার্তা কীভাবে শেষ করবেন? এমন কিছু দিয়ে, যা তাঁদের কাছে কিছুই চায় না: "উত্তর দিতে হবে না", "তোমার কথা ভাবছি", বা নির্দিষ্ট একটা দিনের একটা প্রস্তাব। তারপর আপনার নাম।

নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলে যদি এটি পড়ে থাকেন, আজই কারও সঙ্গে কথা বলুন। findahelpline.com-এ আপনার দেশের বিনামূল্যের, গোপন হেল্পলাইনের তালিকা আছে, আর আত্মহত্যা ও নিজের ক্ষতি করা নিয়ে আমাদের পাতায় আরও কিছু আছে।

এটি ভাগ করে নিন

ইমেইলWhatsApp

Every person has a legacy®

শুরু করুন